ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের পথ: ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করার আইনি উপায়

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের পথ: ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করার আইনি উপায়

 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের পথ: ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করার আইনি উপায়

১) জানুন-বুঝুন ও ব্যবসায় পরিকল্পনা করুন

ব্যবসার আইডিয়া বা ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দেয়ার আগে বুদ্ধিমানের কাজ হলো একটু খোঁজ-খবর, গবেষণা করে নেয়া। যে পণ্য বা সেবা বিক্রি করার কথা ভাবছেন তার বাজার আসলেই আছে কি না যাচাই করে নিন। তারপর যথাসম্ভব বিস্তারিতভাবে একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরি করুন।

২) সহায়তা নিন

ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে একজন উপদেষ্টার পরামর্শ নেয়া উচিত। আপনার প্রতিযোগী নয় এমন একজন সফল ব্যবসায়ী কোন ব্যাক্তি বা ব্যবসায় সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ নিন। সফলতার পথ জেনে নিন।

৩) উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করুন

কোন জায়গায় দোকানই করুন আর অনলাইনেই ব্যবসা করুন না কেন, উপযুক্ত জায়গা বা ওয়েবসাইট ডোমেইন নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিশ্চিত হয়ে নিন কোথায় আপনার কাস্টমার সমাগম বেশি হবে।

৪) মূলধন সংগ্রহ করুন

ব্যবসা শুরু করার জন্য ‘প্রয়োজনীয়’ পরিমান মূলধন আবশ্যক। পরিকল্পনা অনুযায়ী মূলধন নিজে যোগান দিতে না পারলে আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা যেতে পারে। ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসা সহায়ক ঋণ নেয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সমিতি বা এনজিওর সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনাও যাচাই করুন।

৫) আইনি কাঠামো ঠিক করুন

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নানা রকম আইনি কাঠামো হতে পারে। প্রতিটি কাঠামোর নিজস্ব সুবিধা-অসুবিধা, জটিলতা ইত্যাদি রয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিয়ে ব্যবসার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করুন। ব্যবসার আইনি কাঠামো হতে পারে এক মালিকানা, অংশীদারী, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী, অলাভজনক, বা সমিতি।

৬) ব্যবসায়ের নাম নিবন্ধন করুন

একটি উপযুক্ত নাম ঠিক করে তা আপনার এলাকার কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধন করুন। তা হতে পারে স্থানীয় পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলা প্রশাসন।

৭) টিন নম্বর সংগ্রহ করুন

আয়করের আওতায় ব্যবসা নিবন্ধন করার জন্য একটি টিন নম্বর প্রয়োজন ও সেটির সার্টিফিকেট সংগ্রহে রাখা জরুরী। ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি ও কোন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পণ্য বা সেবার সরবরাহকারী হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি জরুরী।

৮) আয়কর নিবন্ধন করুন

স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যাক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য আয়কর নিবন্ধন একটি জরুরী বিষয়। আয়কর নিবন্ধন ছাড়া ব্যাংক ঋণ এমনকি কোন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা পেতেও অসম্ভব হতে পারে। এ ব্যাপারে আয়কর উকিল বা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা পেতে পারেন।

৯) ব্যবসায়ের অনুমতিপত্র, লাইসেন্স সংগ্রহ করুন

আপনার ব্যবসার প্রকৃতি অনুযায়ী স্থানীয়, রাষ্ট্রীয়/সরকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ হতে বিভিন্ন অনুমতিপত্র ও লাইসেন্স প্রাপ্তি জরুরী হতে পারে। ব্যবসা শুরুর আগেই এসব সংগ্রহ করুন যাতে ব্যবসার প্রথম দিন থেকেই আপনার ব্যবসায়িক কর্মকাÐের আইনগত বৈধতা নিশ্চিত থাকে।

১০) কর্মী নিয়োগ করুন

আপনার ব্যবসায় পরিচালনার জন্য কর্মী প্রয়োজন হলে সে সংক্রান্ত আইনগুলো বিবেচনায় রাখুন। কোন কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে। যেমন: নি¤œতম মজুরী/বেতন, কম্পেন্সেশন, স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি।