স্বনিযুক্ত কর্মী বনাম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

স্বনিযুক্ত কর্মী বনাম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

 

স্বনিযুক্ত কর্মী বনাম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

প্রায়ই আমরা ব্যবসায় ও স্বনিযুক্তি বিষয় দু’টি গুলিয়ে ফেলি। স্বনিযুক্ত ব্যক্তিকে ইংরেজিতে বলা হয় সেল্ফ এমúøয়েড পারসন। স্বনিযুক্ত ব্যক্তিও প্রকৃতপক্ষে একজন উদ্যোক্তার মতই কাজ করেন। একজন স্বাধীন আলোকচিত্রি বা ফ্রীল্যান্স ফটোগ্রাফার মূলত একজন স্বনিযুক্ত ব্যক্তি। তিনি কারো চাকরি করেন না। আবার যে কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিক কাস্টমার/ক্লায়েন্ট বা খদ্দেরের জন্য তিনি একটি নির্দিষ্ট কাজ করে দিতে পারেন বা করে থাকেন। তাঁর কাজের কলেবর বা আকারের উপর নির্ভর করে তাকে একজন উদ্যোক্তাও বলা যায় বিশেষ করে যখন তিনি আরও কিছু কর্মী নিয়োগ করবেন তাঁর সহকারী, হিসাব রক্ষক, রিসেপশনিস্ট, মেকওভার আর্টিস্ট, ড্রাইভার ইত্যাদি হিসেবে। সে ক্ষেত্রে তার ব্যবসার একটি প্রাতিষ্ঠানিক আকার থাকতে পারে যা প্রচলিত এবং প্রয়োগযোগ্য সকল আইন বিধি ইত্যাদি অনুসরণ করে নিবন্ধিত আকারে চলবে।

আরেকটি উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক আপনি মোবাইল ফোন মেরামতের কাজে দক্ষ। সে ক্ষেত্রে আপনি একটি মোবাইল ফোন মেরামতকারি বড় কোন প্রতিষ্ঠানে একজন টেকনিশিয়ান হিসেবে চাকরি করলে আপনি হবেন একজন কর্মী। আবার যদি আপনি নিজেই মোবাইল মেরামতের একটি দোকান খুলে একা বা কয়েকজন প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী বা সহকারী নিয়োগ করেন তাহলে আপনি একজন সেল্ফ-এমপ্লয়েড বা স্বনিযুক্ত ব্যক্তি। আর যদি আপনি একটি মোবাইল মেরামত দোকান খুলে নিয়োজিত কর্মীদের দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করেন এবং সেখানে আপনি নিজে মোবাইল মেরামত করেন না তবে আপনি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।

অনেকেই মনে করেন স্বনিযুক্ত একজন পেশাদারের জীবন স্বাধীনতা উপভোগ করার কারনেই অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক। পক্ষান্তরে, একজন স্বনিযুক্ত পেশাদারকে জীবন ও জীবিকার সমস্ত ঝুঁকি ও চাপ একাই বহন করতে হয়। তাঁর সুনির্দিষ্ট কর্ম ঘন্টা যেমন নেই তেমনি সুনির্দিষ্ট ছুটিও নেই। নেই তাঁর পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা বা এই জাতীয় কোন সুবিধা। অবসরকালীন জীবনের জন্য সঞ্চয়ও তাকে নিজেকেই ব্যবস্থা করতে হয়। সেই সাথে ভাবতে ও তৈরি থাকতে হয় নানা রকম অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা বিপদের জন্যও।

নিজের পেশা, চাকরি বা ব্যবসা ইত্যাদি নির্বাচন বা নির্ধারণের সময় এসব বিবেচনা করে এগোনো ও পরিকল্পনা করাই শ্রেয়।